রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রভাব

জ্বালানি তেল আমদানিতে বিকল্প উৎসে ঝুঁকছে এশিয়া

রাশিয়ার জ্বালানি খাতকে লক্ষ্য করে সম্প্রতি নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য।

রাশিয়ার জ্বালানি খাতকে লক্ষ্য করে সম্প্রতি নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। নিষেধাজ্ঞার পর থেকে এশিয়ায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজার দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। আগামী মাসগুলোয় বিকল্প দেশ থেকে পণ্যটি আমদানির দিকে মনোনিবেশ করছে তারা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দেয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে গতকাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এশিয়ার দেশগুলো বিশ্বে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি তেল আমদানি করে। এলএসইজি অয়েল রিসার্চের সংকলিত তথ্যানুযায়ী, এ দেশগুলো ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া থেকে দৈনিক গড়ে প্রায় ৩২ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করতে পারে। এটি জানুয়ারির দৈনিক গড়ে ৩৪ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেলের তুলনায় প্রায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ কম।

২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানি তেল রফতানিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইউ) ও তাদের মিত্র দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে থাকে রাশিয়া। নিষেধাজ্ঞার পর জ্বালানি তেল রফতানির জন্য রাশিয়া এশিয়ার দেশগুলোকে বেছে নেয়। এ দেশগুলোর মধ্যে ভারত ও চীন রাশিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি তেল রফতানি করছে। এছাড়া দেশটি থেকে আমদানিতে মিয়ানমারের কিছুটা হিস্যা আছে।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দেয়া তথ্য থেকে জানা গেছে, রাশিয়া থেকে সম্প্রতি চীনের তুলনায় ভারতের জ্বালানি তেল আমদানি বাড়ছে। এলএসইজি জানায়, রাশিয়া থেকে ভারত ফেব্রুয়ারিতে দৈনিক গড়ে ১৭ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল আমদানি করতে পারে। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে তা কিছুটা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে মার্চে এটি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

চীন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিকারক। ফেব্রুয়ারিতে দেশটির আমদানির পরিমাণ দৈনিক গড়ে ১ কোটি ৩ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করছে এলএসইজি। চীনের জ্বালানি তেল পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো রাশিয়া থেকে আমদানি কমাতে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির জন্য অ্যাঙ্গোলা ও ব্রাজিলের দিকে ঝুঁকেছে দেশটি।

ফেব্রুয়ারিতে সমুদ্রপথে দেশটির আমদানির পরিমাণ হতে পারে দৈনিক গড়ে প্রায় ৫ লাখ ব্যারেল। এটি আগের তিন মাসের গড় দৈনিক ১০ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কম।

অ্যাঙ্গোলা থেকে ফেব্রুয়ারিতে এশিয়ার দেশগুলোর অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি জানুয়ারির তুলনায় দৈনিক ৬ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল বাড়তে পারে। মোট আমদানির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১১ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেলে। অন্যদিকে ফেব্রুয়ারিতে ব্রাজিল থেকে আমদানির পরিমাণ হতে পারে দৈনিক গড়ে ১০ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল, জানুয়ারিতে যা ছিল ৯ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনা পণ্য আমদানিতে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে চীনও পাল্টা শুল্ক আরোপ করে। এমন প্রেক্ষাপটে খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সামনের দিনগুলোয় দেশগুলোর শুল্ক আরোপের পদক্ষেপ জ্বালানি তেলের বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে। তবে মার্চ ও এপ্রিলের সরবরাহের জন্য জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ এরই মধ্যে জলপথে রয়েছে অথবা সরবরাহের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। তাই মে মাস থেকে

যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনের আমদানি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমতে পারে বলে ধারণা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

আরও